নগদবিহীন 🔝🔝🔝
লেনদেন বা ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসন্ন নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিষয়টিকে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সব ধরনের নগদ লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করা হবে। নগদবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে ১০টি ব্যাংক, ৩টি মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা এবং তিনটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমকে এ কাজে প্রাথমিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে নগদে লেনদেন করা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হতে পারে। তবে লেনদেন বছরে ৩৬ লাখ টাকার মধ্যে বজায় রাখে, তাহলে আগের হারেই কর দিতে পারবে কোম্পানিগুলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার
নগদবিহীন লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআর চ্যানেলে লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে আগামী শনিবার (১ জুন) থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিউআর কোডের খরচ ব্যাংকগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের (সিএসআর) তহবিল থেকে এই খরচ দেখাতে পারবে।
২০৩১ সালে শতভাগ ক্যাশলেস লেনদেন
ইতোমধ্যে সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেনের প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পের সঙ্গে সংগতি রেখে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সব লেনদেনের ৩০ শতাংশ এবং ২০৩১ সালের মধ্যে শতভাগ অনলাইন বা ক্যাশলেস লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নগদ টাকা বহনে কমেছে ঝামেলা✓
ক্যাশলেস সমাজে মানুষ এখন কার্ডের পরিবর্তে মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন একটি অ্যাপভিত্তিক বহুমুখী ব্যাংকিং সেবা। বর্তমানে গ্রাহক এই অ্যাপ ব্যবহার করে কেনাকাটা থেকে শুরু করে পরিষেবা বিল, ক্রেডিট কার্ড বিল, বাস ও ট্রেনের টিকিট কাটার মতো কাজ অনায়াসেই সেরে নিচ্ছেন।
২০১৯ সালে ‘ওয়ালেট লোডিং’ ও ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা নিয়ে আসার মাধ্যমে মুঠোফোনে আর্থিক সেবা ও ব্যাংক কার্ড নেটওয়ার্কের মধ্যে লেনদেন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট কার্ড বিল পেমেন্ট এবং প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) গ্রহণের মতো সেবাগুলো চালু হয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ করে দেয়। তখন থেকে মোবাইল ফোনে শুধু একটা অ্যাপ থাকলেই যেকোনও কিছু কেনা যাচ্ছে। কুইক রেসপন্স বা কিউআর কোডে দেওয়া যাচ্ছে পণ্যের দাম বা সেবার মূল্য। বড় শোরুম-চেইন শপ থেকে শুরু করে ফুটপাত ও ছিন্নমূল ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য পরিশোধ করছেন কিউআর কোডের মাধ্যমে।
গত বছরের শুরুতে প্রায় ১২০০ মার্চেন্ট নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে এই ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগটির যাত্রা শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পণ্য বা সেবা মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ, কার্ড বা চেক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নগদ অর্থে পরিশোধ ঝুঁকিপূর্ণ, চেকে পরিশোধ সময়সাপেক্ষ ও জটিল। অন্যদিকে কার্ড ব্যবহারের জন্য ব্যাংক বা এমএফএস-গুলোকে ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো বিনির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে কার্ডে মূল্য পরিশোধব্যবস্থা মার্চেন্টদের জন্য ব্যয়বহুল। ছোট মার্চেন্টের (যেমন: ডাব বিক্রেতা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, মুচি ইত্যাদি) পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় বিধায় প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি। ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসারে পৃথিবীব্যাপী লো-কস্ট সলিউশন প্রচলনের তাগিদ রয়েছে।
কুইক রেসপন্স (কিউআর) ডিজিটাল পেমেন্ট এমনি একটি লো-কস্ট সলিউশন। বাংলা কিউআর-এ অংশগ্রহণকারী যে কোনও ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টধারী গ্রাহক যে কোনও ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টধারী মার্চেন্টকে পণ্য বা সেবামূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
কিউআর কোড কেবল একটি প্রিন্টেড ছবি হওয়ায় এই পরিশোধব্যবস্থায় মার্চেন্টের অংশগ্রহণের খরচ নেই। তাই এ পরিশোধব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সূত্র: দৈনিক বাংলা ট্রিবিউট
Comments
Post a Comment